এমপ্লিফাইয়ার কাকে বলে?

এমপ্লিফাইয়ার কাকে বলে -What is Amplifier: এমপ্লিফাইয়ার এর সরল বাংলা অর্থ হতে পারে পরিবর্ধক বা শক্তিবর্ধক। এটি এমন একটি বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা কোনও ইনপুট সিগন্যালের কারেন্ট বা শক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এটি একটি  বৈদ্যুতিক সার্কিট যা তার ইনপুট টার্মিনালগুলিতে প্রয়োগ করা সংকেতের প্রশস্ততা বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে, তার আউটপুটে আনুপাতিকভাবে বৃহত্তর সংকেত উৎপাদন করে। আমাদের স্টকে বিভিন্ন টাইপের এমপ্লিফাইয়ার আছে প্রাইজ সহ বিস্তারিত জানতে হলে এই লিংকে ক্লিক করুন।

একটি এমপ্লিফাইয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:

বেশিরভাগ এমপ্লিফাইয়ার কাছকাছি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। যেসকল বৈশিষ্টের উপর একটি এমপ্লিফাইয়ার এর গুনাগুন নির্ভর করে সেগুলো হলঃ

  • Bandwidth:  ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ যার মধ্যে এমপ্লিফায়ার ভাল কাজ করে।
  • Noise: আউটপুটে অন্তর্ভুক্ত অযাচিত অতিরিক্ত তথ্যের/শব্দের পরিমাণ।
  • Slew Rate: আউটপুটের পরিবর্তনের সর্বোচ্চ সীমা।
  • Gain: আউটপুট ইনপুট সিগনালের মাত্রার অনুপাত।
  • Stability: নিরবিচ্ছিন্ন আউটপুট সরবরাহের ক্ষমতা।
  • Linearity: ইনপুট পাওয়ারের কতটুকু আউটপুট পাওয়ারে পরিনত হয় তার অনুপাত।
  • Efficiency: আউটপুট পাওয়ারের কতটুকু শব্দে পরিনত হয় তার হার।
  • Output Dynamic Range: বৃহত্তম ও ক্ষুদ্রতম কার্যকরী আউটপুট লেভেলের অনুপাত।

এমপ্লিফাইয়ারের প্রকারভেদ

আসুন এখন এমপ্লিফাইয়ারগুলোর শ্রেণিবিন্যাস বোঝার চেষ্টা করি। এমপ্লিফায়ারগুলি বিভিন্ন  বিবেচনা অনুসারে বিভিন্ন নামে পরিচিত। যেমনঃ

পর্যায়ের সংখ্যার ভিত্তিতে

পরিবর্ধনের ধাপের সংখ্যা অনুসারে single stage এবং multi stage amplifier রয়েছে।

  • Single Stage Amplifier – এটিতে কেবল একটি ট্রানজিস্টর সার্কিট রয়েছে।
  • Multi Stage Amplifier – এটিতে একাধিক ট্রানজিস্টর সার্কিট রয়েছে।   

আউটপুটের উপর ভিত্তি করে

  • Voltage Amplifier  – এই এমপ্লিফায়ারগুলো ইনপুট সিগন্যালের ভোল্টেজের স্তরকে বাড়িয়ে তোলে।
  • Power Amplifier – এই এমপ্লিফায়ারগুলো ইনপুট সিগন্যালের পাওয়ারের স্তর বৃদ্ধি করে।
  • Transconductance Amplifier: এই এমপ্লিফায়ারগুলো পরিবর্তিত ইনপুট ভোল্টেজ অনুযায়ী আউটপুট কারেন্ট পরিবর্ধন করে।
  • Transresistance Amplifier: এই এমপ্লিফায়ারগুলো ইনপুট কারেন্ট অনুযায়ী আউটপুট ভোল্টেজ পরিবর্ধন করে।

ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের উপর ভিত্তি করে

  • Audio Amplifier – অডিও ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের (20 Hz থেকে 20 KHz) মধ্যে থাকা সংকেতগুলিকে বাড়িয়ে তোলে।
  • Power Amplifier – খুব উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের মধ্যে থাকা সংকেতকে বাড়িয়ে তোলে।

কাপলিং পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে

  • RC Coupled Amplifier- একটি মাল্টি-স্টেজ অ্যামপ্লিফায়ার সার্কিট যা প্রতিরোধক এবং ক্যাপাসিটার (আরসি) সংমিশ্রণটি ব্যবহার করে পরবর্তী পর্যায়ে মিলিত হয়।
  • Transformer Coupled Amplifier – একটি মাল্টি-স্টেজ এমপ্লিফায়ার সার্কিট যা পরবর্তী পর্যায়ে মিলিত হয় ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে।
  • Direct Coupled Amplifier- একটি মাল্টি-স্টেজ এমপ্লিফায়ার সার্কিট যা সরাসরি পরবর্তী পর্যায়ে মিলিত হয়।

ট্রানজিস্টার কনফিগারেশনের উপর ভিত্তি করে

  • CE – সিই কনফিগার করা ট্রানজিস্টর সংমিশ্রণটি ব্যবহার করে যে এমপ্লিফায়ার সার্কিট তৈরি হয় তাকে সিই পরিবর্ধক বলা হয়।
  • CB – যে এমপ্লিফায়ার সার্কিট সিবি কনফিগার করা ট্রানজিস্টর সংমিশ্রণটি ব্যবহার করে তৈরি হয় তাকে সিবি পরিবর্ধক বলা হয়।
  • CC – সিসি কনফিগার করা ট্রানজিস্টর সংমিশ্রণটি ব্যবহার করে যে এমপ্লিফায়ার সার্কিট তৈরি হয় তাকে সিসি এমপ্লিফায়ার বলা হয়।

বিশ্বের অনেক নামী দামী প্রতিষ্ঠান এপ্লিফাইয়ার উৎপাদন করে তাদের মধ্যে অন্যতম হল TOA, BOSCH, AHUJA, Electrovice, ITC ইত্যাদি

অপারেশনের ধরনের ভিত্তিতে

অপারেশনের ধরনের ভিত্তিতে এমপ্লিফাইয়ারগুলোকে A,B,C,D অক্ষর অনুযায়ী কয়েকটি ক্লাসে ভাগ করা হয়। বুঝার সুবিধার্থে আমরা বিষয়টি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করছিঃ  

ক্লাস বিবরণ / বৈশিষ্ট সুবিধা অসুবিধা কার্যকারিতা
A ইনপুট সিগনাল আসুক বা না আসুক সর্বদাই চালু থাকে। পরিবাহী কোণ Θ = ৩৬০ ° একটি ট্রাঞ্জিস্টর ব্যবহৃত হয়। খুব নির্ভুল শব্দ পাওয়া যায়।
লিনিয়ারিটি সর্বোচ্চ। কম যন্ত্রাংশ দিয়ে সহজে তৈরি করা যায়।
অনেক গরম হয়ে যায়। বেশী হিট সিঙ্ক দরকার হয়। অনাকাঙ্ঘিত শব্দ চলে আসে। পাওয়ার লস বেশী হয়। ১৫-৩০%
B পরিবাহী কোণ Θ = ১৮০ ° পজিটিভ ও নেগেটিভ সাইকেলের জন্য আলাদা দুইটি ট্রাঞ্জিস্টর ব্যবহৃত হয়। ক্লাস এ এর তুলনায় অনেক ভাল কম গরম হয়, বেশী কার্যকর শব্দ সরবরাহ করে। ক্রসওভার বিকৃতি ঘটে কারণ এক ট্রাঞ্জিস্টর থেকে যখন সিগনাল অপর ট্রাঞ্জিস্টরে যায় তখন বেস এমিটার বায়াজ শূন্য থাকে। ৭০%
AB ক্রসওভার বিকৃতি রোধের জন্য ৫-১০% বায়াজ ভোল্টেজ দিয়ে এটি তৈরি হয়। পরিবাহী কোণ  ১৮০ ° থেকে একটু বেশী। এ এবং বি উভয়ের সুবিধা নিয়ে ক্রসওভার বিকৃতি কাটিয়ে উঠায় এটি বাজারে বহুল প্রচলিত ও দামে সাশ্রয়ী। লিনিয়ারিটি ও কার্যকারিতা ক্লাস বি এর তুলনায় কমে যায়। ৫০-৭০%
C পরিবাহী কোণ  ১৮০ ° থেকে একটু কম। টিউনড ও আনটিউনড দুই মোডেই চলে। রেডিও ফ্রিকুএন্সির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কার্যকর। সাইজে ছোট। লিনিয়ারিটি আরও কম। অডিও এমপ্লিফাইয়ারের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নেই। ৮০-৯০%
D অন-অফ নন-লিনিয়ার সুইচিং টেকনিক মেনে চলে। আউটপুট ডিভাইসগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য  pulse-width modulation প্রয়োগ হয়। একে ডিজিটাল এমপ্লিফাইয়ার ও বলা হয়। গরম হয়না। সর্বাধিক কার্যকর। অত্যন্ত নিখুঁত ও সঠিক আউটপুট পাওয়া যায়। কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যান্য ক্লাসের তুনায় তুলানামুলক জটিল ডিজাইন। ৯০-১০০%


কি ভাবে একটা এমপ্লিফাইয়ার সাথে স্পিকার কানেকশন করতে হয় দেখে নিন ভিডিও থেকে

যে কোন ধরনের এমপ্লিফাইয়ার সম্পর্কে জানতে হলে ফোন করুন 01979300940, 01719300940,029113552